আজ : ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার প্রকাশ করা : মার্চ ২৪, ২০২১

  • কোন মন্তব্য নেই

    সূর্যমুখীর সফল চাষ শ্রীমঙ্গলে ১০০ হেক্টর জমিতে

    সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ জালাল উদ্দিন।

    শ্রীমঙ্গলে ১০০ হেক্টর জমিতে দ্বিতীয়বারের মতো সূর্যমুখীর সফল চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে সূর্যমুখী গাছে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। সূর্যমুখীর প্লটগুলোতে এখন ফুলের সমারোহ। চাষিরাও খুব খুশি। অল্প খরচে সূর্যমুখী চাষে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন সূর্যমুখী চাষিরা। শ্রীমঙ্গলের বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে হাসছে সূর্যমুখী। সবুজের মধ্যে হলুদ ফুলগুলো অপরুপ সৌন্দর্য হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, পানি, মাটি সূর্যমুখী চাষের উপযোগী। তাই আমাদের দেশে সূর্যমুখীর সম্ভাবনা উজ¦ল।

    এ কারণে দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত মৌসুমে অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। গত মৌসুমে সূর্যমুখীর চাষ সফল হওয়ায় এবার আরো অধিক জমিতে সূর্যমুখীর সফল চাষ হয়েছে। জানা গেছে, ওই বছর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৬০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছিল। প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছিল ৬০ টি। ইউনিয়নগুলো ছিল– মির্জাপুর, সিন্দুরখান, কালাপুর, ভূনবীর, শ্রীমঙ্গল সদর ও আশিদ্রোন। কৃষি অফিস সুত্র জানায়, গত বছর রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বিনামূল্যে সার, বীজ, প্রশিক্ষণ ভাতা এবং প্রদর্শনী প্লটের পরিচর্যা, সেচ, আগাছা ও পোকা-মাকড় দমন বাবদ ১ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল প্রতি চাষিকে। দেয়া হয় প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ ভাতাও।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি জানান, গত বছর সূর্যমুখীর সফল চাষ ও ভাল ফলন হওয়ায় এবার অনেক চাষি সূর্যমুখী চাষে উৎসাহী হয়েছেন। তাই এ বছর উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে ১০০ টি। প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটের জমির পরিমান ১ বিঘা। বিনামূল্যে সার, বীজসহ পরিচর্যা, সেচ, আগাছা পোকা-মাকড় দমন বাবদ দেড় হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে প্রতি চাষিকে।

    কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি জানান

    এছাড়াও ৩০০ জন চাষিকে ৩০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের জন্য বীজসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি নিয়মিত এইসব প্রদর্শনী প্লটসহ সূর্যমুখীর অন্যান্য জমিগুলো নিয়মিত দেখভাল করছেন বলেও জানান। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, ভোজ্যতেলের পুরোটাই আমদানি নির্ভর। তাই আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসম্মত তেল উৎপাদনই এর উদ্দেশ্য। মোনালিসা সুইটি বলেন, সূর্যমুখী একধরনের একবর্ষী ফুলগাছ।

    এর বীজ তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। বাংলাদেশেও একটি তেল ফসল হিসেবে সূর্যমুখীর চাষ হচ্ছে। সূর্যমুখী তেল অন্যান্য রান্নার তেল হতে খুব ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত কম। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি এবং ই রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা মোনালিসা সুইটি আরো বলেন, সূর্যমুখী তেল পৃথবীর শ্রেষ্ঠ তেল যা রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। ভোজ্যতেলের মধ্যে সূর্যমুখী অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর অর্থাৎ পুষ্টিমানে সর্বোত্তম।

    এক কথায় সূর্যমুখী তেল মানে-গুনে অনন্য। এ তেল হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী কারণ এতে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে না। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নজরুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সূর্যমুখীর প্রদর্শনী প্লটগুলো পরিদর্শন শেষে বলেন, এবার শ্রীমঙ্গলে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে অন্যান্য রবিশস্যের সাথে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর শ্রীমঙ্গলে সূর্যমুখীর আবাদ আরো বাড়বে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *